দৈনিক ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাক

শিশুর জন্য চাই নিরাপদ পৃথিবী

0
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। শিশু নির্যাতনের কিছু ঘটনা জনসমক্ষে আসছে আবার অনেক ঘটনা অন্তরালেই থেকে যাচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সিঙ্গিমারী জমিরহাট এলাকায় পাঁচ বছরের একটি শিশু মানুষরূপী দানব কর্তৃক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। সাইফুল নামের এক নরপশু পাঁচ বছরের অবুঝ নিষ্পাপ এই শিশুটিকে ধর্ষণ ও লোমহর্ষকভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। এ শিশুটিকে এমনভাবে নির্যাতন করা হয়েছে যা সভ্য সমাজের বাসিন্দাদের পক্ষে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। শিশুটির প্রতি সান্ত্বনা জানানোর ভাষাও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। এমন ঘটনায় নির্বাক হয়ে আমরা শুধু অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

নজরদারির সঙ্গে চাই সামাজিক প্রতিরোধ

0
সারাবিশ্বের পাশাপাশি উগ্র জঙ্গিবাদী সন্ত্রাস বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে গণ্য হতে যাচ্ছে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক যে উগ্রবাদী হামলা ঘটছে তা মানুষকে অসহায় করে তুলছে। মানুষ এর সুরাহা চায়। এ থেকে মুক্তি চায়। সে জন্য সরকার যে পদক্ষেপ নেবে তাতে কারো আপত্তি থাকবে বলে মনে হয় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক প্রতিরোধই পারে জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে। বর্তমান সরকার জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে নানা পদক্ষেপ অব্যাহত রাখলেও সংকট পিছু ছাড়েনি। গত ১ জুলাই শুক্রবার গুলশানের হোটেল আর্টিজানে এবং ঈদুল ফিতরের দিন (০৭ জুলাই) শোলাকিয়ায় ঈদগাহ ময়দানের পাশে জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক ইতিহাসের যে ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে তা পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। শুধু বাঙালিরা নয়, সারা বিশ্ব এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববাসীকে নতুন বার্তা দিয়ে গেলো। তবে আশার কথা হলো সরকার বিষয়গুলোকে যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অকুতোভয় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

দায়িত্বশীল সরকার ও তার সিদ্ধান্ত

0
বর্তমান সরকার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতিসহ দেশের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরো জোরদারে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে অধিকতর শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সরকার এ দেশের উন্নয়নের গতিকে আরো ত্বরান্বিত করতে চায়। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়। প্রয়োজন জনগণের সহযোগিতার।

ইয়াসমিন আরা লেখা : এক অনন্য সাহিত্য বিশ্লেষক

0

ড. ইয়াসমিন আরা লেখা শিক্ষাবিদ, ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্য সমালোচক হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিত। তিনি একাধিক গ্রন্থের সম্পাদক ও লেখক। তাঁর উত্সাহ ও ঔত্সুক্যের বিষয় বিচিত্র। তিনি শিক্ষা, শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন; আবার জাতীয় পত্রিকায় সমকালীন বিষয় নিয়ে কলাম লিখে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। পাঠের বৈচিত্র্য ও লেখনীর সাবলীলতায় তাঁর প্রকাশ দক্ষতা অনন্য। বাংলাদেশের সাহিত্যের সামগ্রিক, যুক্তিগ্রাহ্য ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করেছেন তিনি। শিল্প-সাহিত্যের আনন্দ ও সৌন্দর্যকে সম্যক অনুধাবন করার ক্ষমতা তাঁর আছে।

ষোলোতে বিয়ে :পরিকল্পনা ও বাস্তবতা

0
বিশ্বের ৬শ’ ৫৪ কোটি মানুষের অর্ধেকের বেশি নারী। বাংলাদেশের চিত্রও অভিন্ন। ১৬ কোটি মানুষের মাঝে নারীর সংখ্যা অর্ধেক। এ অবস্থায় নারীর ক্ষমতায়ন ও তার সক্ষমতা প্রমাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু সম্প্রতি মেয়েদের বিয়ের বয়স নিয়ে সরকারের নানা অংশ থেকে যে আলোচনা হচ্ছে তা বিবেকবান ও সচেতন মানুষের মাঝে শঙ্কা সৃষ্টি করছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে চাই সামাজিক প্রতিরোধ

0
সারাবিশ্ব উগ্র জঙ্গিবাদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হওয়ার কারণে বর্তমানে জঙ্গিবাদ পৃথিবীব্যাপী একটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের উন্নত এবং ক্ষমতাবান দেশগুলোকে জঙ্গিবাদের আতঙ্ক রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বৃহত্ পরাশক্তিগুলো জঙ্গিবাদী বা উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মোকাবিলায় তত্পর হলেও ফ্রান্সের মতো একটি রাষ্ট্রে যখন উগ্রগোষ্ঠী নির্বিচারে হামলা চালায় তখন আঁঁতকে উঠতে হয় পুরো বিশ্বকে। যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলার টার্গেটে থাকে তখন আমাদের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের অধিবাসীরাও কমবেশি আতঙ্কগ্রস্ত হন। তবে বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের যে ভীতি ঘরে-ঘরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ বোধহয় তার চেয়ে কিছুটা নির্ভার। এক্ষেত্রে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ জনগণকে আশ্বস্ত করেছে।
আমরা যদি কয়েক বছর পেছনে ফিরে তাকাই তাহলে কি দেখব? দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায়, আদালতে, বিভিন্ন সমাবেশে গ্রেনেড ও বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ হামলা আমাদেরকে শুধু বিস্মিতই করেনি, আতঙ্কিতও করেছিল। জঙ্গিবাদ মতাদর্শী বিভিন্ন সংগঠনের উত্থান একসময় পুরো জাতিকে আতঙ্কিত করলেও আজ এ ধরনের আতঙ্ক অনেকটা দূর হয়েছে। সময়ের ব্যবধানে সে আতঙ্ক এখন আর আগের মতো তাড়িয়ে ফেরে না জনগণকে। এজন্য দেশের রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে দেশের আপামর জনতার সাধুবাদ বর্তমান সরকার নি:সন্দেহে পেতে পারেন।

গৌরবের যত অর্জন

0
জলবায়ুর পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বে একটি মারাত্মক হুমকিরূপে আবির্ভূত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশসহ অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। উন্নত বিশ্বের শিল্প কারখানার কারণে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা। গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ায় বাতাসে সীসার মাত্রা বেড়ে যাওয়া, সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ পানির লেভেল ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়াসহ ওজন স্তর ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়েই দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ বাড়ছে। ভূমিকম্প, ভূমিধস, খরা-বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হচ্ছে মানুষ। উন্নত বিশ্বের শিল্পমুখীতার প্রভাবে এসব দুর্যোগের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্ব পায়। পর পর কয়েকটি জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের, আরও স্পষ্ট করে বললে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এসব সম্মেলনে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

অটিজম: চাই সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ

0
শারীরিক প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিষয়ে আমরা কিছুটা অবগত হলেও ‘অটিজম’ (Autism) শব্দটির সাথে আমরা খুব বেশি পরিচিত নই। ছোট এই শব্দটির গভীরতা এত বেশি যার ব্যাপকতা সম্পর্কে আমাদের জানা অত্যন্ত জরুরি।
অটিজম মস্তিষ্কের একটি স্নায়ুবিক সমস্যা যা মস্তিষ্কের সাধারণ কর্মক্ষমতাকে ব্যাহত করে। অটিজম শব্দটির বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় নিজের মধ্যে মগ্ন থাকা। অটিজম শিশুরা একা একা  নিজের মনে, নিজের জগতে বিচরণ করে। তারা কারও সাথে কথা বলে না, তাদের চাহনি কিছুটা অস্বাভাবিক ও অন্যের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে না। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেয় না,  নিজের  চাওয়া পাওয়া নিয়ে কারও সাথে আলোচনা  করে না, মাকে জড়িয়ে ধরে না কিন্তু যে কাজগুলো করে তা বার বার করতে থাকে। অর্থাত্ পুনরাবৃত্তিমূলক  আচরণ করে। এছাড়া অতি চাঞ্চল্য (Hiper Activity), জেদি ও আক্রমণাত্মক (Aggressiveness)  আচরণ, অহেতুক ভয়ভীতি, খিঁচুনি  ইত্যাদিও এসব শিশুদের মধ্যে থাকতে পারে। এই শিশুদের বিশেষ কিছুর প্রতি অত্যাধিক আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায় যেমন- কাগজ  ছেঁড়া, পানি বা তরল পদার্থ দিয়ে খেলা, চাল, ডাল দানাদার কিছু দিয়ে খেলা আলোতে চোখ বন্ধ করা, শব্দ শুনলে  কানে হাত দেয়া, দুর্গন্ধে কোন প্রতিক্রিয়া না করা, স্বাদ ও  স্পর্শে তেমন  অভিব্যক্তি প্রকাশ  না করা ইত্যাদি। শিশুর জন্মের তিন বছরের মধ্যেই অটিজম শিশুদের উল্লেখিত লক্ষণের কোন না কোনটি প্রকাশ পায়। অনেক ক্ষেত্রে আঠার মাস বা জন্মের পর থেকেই শিশুর আচরণ অস্বাভাবিক মনে  হতে পারে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় সচেতন হতে হবে জনগণকেও,

0

শিশুদের শিক্ষার ভিত রচনা করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা। এ স্তর থেকে ভিত্তি শক্তিশালী করে শিশুরা অন্যান্য স্তরে প্রবেশ করে। সম্প্রতি শিক্ষার ভিত রচনাকারী দেশের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে নানাধরণের নেতিবাচক সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও বিদ্যালয় দখল করে মাজার গড়ে উঠেছে, কোথাও বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল হয়ে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ময়লার ভাগাড় ও হাঁটবাজার গড়ে উঠেছে এবং অনেক বিদ্যালয়ের সামনে হাঁস-মুরগির বাজার থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে দরজা জানালা নেই। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থী নেই। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর এই দৈন্যদশার চিত্র আমাদের ভাবিয়ে তোলে। যে প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত সুনাগরিক গড়ে ওঠার কথা সেখানে এতো সমস্যা থাকলে লেখাপড়া বিঘ্নিত হবে সেটা নিশ্চিত। আর লেখাপড়া বিঘ্নিত হলে দেশের ভবিষ্যত প্রজš§ কতটা সুষ্ঠুভাবে গড়ে উঠবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ শিশুরাই জাতির ভবিষ্যত। এরাই ভবিষ্যত বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। ভবিষ্যত বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। কিন্তু একশ্রেণীর মানুষ শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। জাতির ভবিষ্যত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দুষ্টচক্রকে এখনই রুখতে হবে ।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক

0
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির নাম মালয়েশিয়া। দেশটি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় রাষ্ট্র। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কৃষি নির্ভর মালয়েশিয়া পরিণত হয় একটি শিল্পসমৃদ্ধ অর্থনীতিতে। প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ছিল স্বাধীনতা-উত্তর মালয়েশিয়ার মূল দর্শন। মালয়েশিয়ার দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পেছনে আছে সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা ও উন্নত উন্নয়ন পরিকল্পনা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২০ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে মালয়েশিয়া। উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র হিসাবে মালয়েশিয়াসহ অন্য বন্ধু রাষ্ট্র পাশে থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হতে বাংলাদেশকে বেগ পেতে হবে না এমনটাই আশা বিশ্লেষকদের।

Recent News

Popular Posts